» পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে অচল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Published: 08. Apr. 2019 | Monday

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। গতকাল বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী মোখলেসুর রহমান ও একই বর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রমজান হোসাইন। জানা যায়, গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হোসপাইপ কর্তন ও রেলস্টেশনের এক লোকোমাস্টারকে অপহরণ করেন আন্দোলনকারীরা। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষকবাসসহ সিএনজি, রিকশাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ৩ এপ্রিল আটক ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে ধর্মঘট পালন করেন তারা। ধর্মঘটে তারা নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরে যেতে বলে। তারা সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও জলকামান নিক্ষেপ করা হয়। চট্টগ্রাম উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দোলা রেজা বলেন, ‘আমরা সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানাই। তবু কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আমরা তাদের মৃদু লাঠিচার্জ করি। পরে জলকামান ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক আরাফাত বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করা হয়েছে। কিসের ভিত্তিতে, কোন উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে তার জবাব চাই।’ অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘বারবার সংঘর্ষের পরও আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। আটকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবু ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে তারা নেমেছে। এরপর কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।