| হই হই রই রই, এত টাকা গেল কই? -

» হই হই রই রই, এত টাকা গেল কই?

Published: 08. Apr. 2019 | Monday

‘শিক্ষা আমাদের সুযোগ নয়, শিক্ষা আমাদের অধিকার। হই হই রই রই, এত টাকা গেল কই? ইবি পাবলিক না প্রাইভেট? শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করো’ এমন স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে বর্ধিত ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’র পাদদেশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, নামে-বেনামে বিভিন্ন খাত তৈরি করে ফি বৃদ্ধি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ফরমের মূল্যসহ ভর্তি ফি বৃদ্ধি, হল ফি, সেমিস্টার ফি, পরিবহন ফি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে এ ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া নতুন বেশ কয়েকটি খাত তৈরি করা হয়েছে, যার কোনো কার্যকারিতা নেই।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতি বছর ভর্তির সময় ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ফি দিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের হিমশিম খেতে হয়। আমরা চাই অবিলম্বে এসব খাতে বর্ধিত ফি কমানো হোক। যাতে দরিদ্র পরিবার থেকে আসা কোনো শিক্ষার্থীকে আর্থিক কষ্টে পড়তে না হয়।

মানববন্ধনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ ও প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রশিদুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান। এরপর তারা শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন এবং ক্লাসে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের আশ্বাস উপেক্ষা করে আন্দোলন চালান। সেই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মানববন্ধন শেষ করেন তারা।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দীর্ঘদিনের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। এরই প্রেক্ষিতে আমরা দাবি আদায়ে এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, বিষয়টি একটি মীমাংসিত ইস্যু। এখানে সকল ফি অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক কম এবং সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি ফিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় তিনগুণ ফি বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর কাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এ দাবি মেনে নেয়নি। গত বছর ছাত্রলীগের সমর্থনে ফি কমানোর আন্দোলন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলনও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।