Thu. Aug 22nd, 2019

বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রমাণ করে গেলেন লিটন

1 min read

ঢাকা: ত্রিদেশীয় সিরিজের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের দেয়া ২৯৩ রানের টার্গেট ব্যাট করতে নেমে দারুন সূচনা করেছে বাংলাদেশ দল। বিনা উইকেটে স্কোর বোর্ডে ১১৭ রান জমা করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। দুজনেই তুলে নেন ফিফটি। তামিম ৫৭ করে ফিরলেও সাকিবের সাথে আরও একটি ছোট্ট জুটি গড়ে ৭৬ রানে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে আগে নিজেকে প্রমাণ করলেন এই ওপেনার।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাটিং শুরু করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। ঠাণ্ডা মাথায় দেখেশুনে খেলার খেলে তারা দুজনেই তুলে নেন ফিফটি। ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৯২তম ম্যাচে ৪৬তম ফিফটি করেন তামিম। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে রানকিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৫৩ বলে ৯টি চারে ৫৭ রান করে এই ওপেনার।

এরপরই ক্যারিয়ারের ২৮তম ওয়ানডে ম্যাচে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। তামিমের বিদায়ের পর সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়েছেন তিনি। তবে সেই জুটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সাকিবের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরেছেন লিটন। ম্যাকক্যাথির শিকার হয়ে ফেরার আগে ৬৭ বলে ৯টি চার আর এক ছক্কায় ৭৬ রান করে নিজেকে বিশ্বকাপের জন্য প্রমাণ করে গেছেন এই ওপেনার।

এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ২০ এবং মুশফিকুর রহীম ১৩ রান করে অপরাজিত আছেন।

এর আগে টাইগারদের বাজে ফিল্ডিং ও পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৯২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে আয়ারল্যান্ড।

উইন্ডিজকে টানা দুইবার হারিয়ে আগেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে টাইগাররা। ফলে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটি পরিনত হয়েছে নিয়মরক্ষার ম্যাচে। ম্যাচে একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগের দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য সরকার। তাকে বিশ্রাম দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছে লিটন দাসকে।

বুধবার (১৫ মে) ডাবলিনে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকদের দারুন সূচনা করেন দুই ওপেনার জেমস ম্যাককলাম ও পল স্টারলিং। তবে দলীয় ২৩ রানে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট উপহার দেন রুবেল হোসেন। নিজের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে জেমস ম্যাককলামকে লিটন দাসের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরৎ পাঠান এই পেসার।

এরপর ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা অ্যান্ড্রু বালবিরনিকে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে দিতে বাধ্য করেন আবু জায়েদ রাহী। সাজঘরে ফেরার আগে ২০ বলে ২০ রান করেন এই আইরিশ ব্যাটসম্যান। বালবিরনিকে আউট করার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম সাফল্য পেলেন রাহী। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম সাফল্য পান বাংলাদেশ দলের এই তরুণ পেসার।

ক্রিকেটের বাইশ গজে সেঞ্চুরি করে কৃজ্ঞতা স্বরুপ মাঠে সেজদা দিয়ে থাকেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশের একাধিক ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সেজদা দিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নাম তুললেন আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যান পল স্টারলিং! যিনি ম্যাচে একবার নয়, দুই দুইবার নতুন জীবন পেয়েছেন। তার শতকে ভর দিয়ে রানের পাহাড় গড়ছে স্বাগতিক আইরিশরা। আর ক্যাচ মিসের মাশুল গুনছে বাংলাদেশ।

৫৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে প্রতিরোধ গড়েন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড আর পল স্টারলিং। তবে মোসাদ্দেক ও সাকিব আল হাসানের বলে জীবন পান স্টারলিং। ২১তম ওভারের শেষ বলে লং অফে তাকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নিতে পারেননি সাব্বির হোসেন। পরের ওভারের প্রথম বলে পয়েন্টে তার সহজ ক্যাচ মিস করেন।

নতুন জীবন পেয়ে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করেন আয়ারল্যান্ডের এই ওপেনার। এর আগে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন পল স্টারলিং।  ইনিংসের ৪২তম ওভারে সাইফউদ্দিনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন পল স্টারলিং। সেঞ্চুরির করে মাঠেই সিজদা দিলেন পল স্টারলিং।

তবে পোর্টারফিল্ড মাত্র  ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। ১০৬ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে লিটনের ক্যাচ হন আইরিশ অধিনায়ক। ৯৬ রান করে রাহীর দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ১৭৪ রানের এই শক্ত জুটি ভাঙার পর জ্বলে ওঠেন রাহী। অষ্টম ওভারে তার জোড়া আঘাতে ফেরেন কেভিন ও’ব্রায়ান (৩) ও স্টারলিং। ১৪১ বলে ৮ চার ও ৪ ছয়ে ১৩০ রান করে লিটনের হাতে ক্যাচ হন স্টারলিং। ৪৯তম ওভারে গ্যারি উইলসন পরপর দুটি চার মেরে রাহীর পঞ্চম শিকার হন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ৫ উইকেট পেলেন এই তরুণ পেসার। শেষ ওভারে সাইফউদ্দিন জোড়া আঘাতে ফেরান মার্ক অ্যাডাইর (১১) ও জর্জ ডকরেলকে (৪)। তাতে ৩০০ রান করতে ব্যার্থ হয় স্বাগতিকরা। তাদের স্কোর বোর্ডে জমা হয় ৮ উইকেটে ২৯২ রান।

বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকার করেন আবু জায়েদ রাহী। এছাড়া দুই উইকেট নেন সাইফউদ্দিন।

ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটা তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতার। দলে চার পরিবর্তন এনে একাদশ গঠন করেছে বাংলাদেশ দল। মোহাম্মদ মিঠুন ও সৌম্য সরকারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় দলে ফিরেছেন লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন। মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় খেলছেন রুবেল হোসেন ও সাইফউদ্দীন। চার পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে শুরু, আইরিশ ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত। তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে মাশরাফি বাহিনী। ফলে লিগ পর্ব থেকেই বাদ পড়লো স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। তাই টুর্নামেন্টের ফাইনালিষ্ট নির্ধারন হয়ে যাওয়ায় লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটি হয়ে পড়েছে গুরুত্বহীন। যেখানে বুধবার লড়বে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। আর এই গুরুত্বহীন ম্যাচেও জয় চায় মাশরাফির দল। নিজেদের শেষ ম্যাচে প্রথম জয়ের স্বাদ নিতে মরিয়া আইরিশরাও।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.