Mon. Sep 23rd, 2019

বিশ্বের অবাক করা বিচিত্র যত বিয়ের গল্প! ( ভিডিও)

1 min read

বউ ৭৬ আর স্বামী ১ :

মাজাক মালক আকট দক্ষিণ সুদানের অধিবাসী। তিনি দিনকা উপজাতির প্রধান। ৬৮ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিয়ে করেন ৭৬টি। তার পরিবারকে সবাই তামাশা করে বলতো, পারমাণবিক পরিবার। ৬৫ জন ছেলে সন্তান ও ৮৬ জন মেয়ে সন্তানের বাবা তিনি। বউদের মধ্যে ৪০ জন সন্তান প্রসব করেছেন। আফ্রিকায় বহু স্ত্রী রাখার ঘটনা তেমন আশ্চর্যজনক নয়। তবে আকটের ক্ষেত্রে বিয়ের সংখ্যাটা একটু বেশিই। তার সম্পদের পরিমাণও ছিল প্রচুর। সুতরাং ভরনপোষণের ব্যাপারে তিনি ছিলেন নিশ্চিন্ত।

৩১টি যুগলের বিয়ে এক সঙ্গে :

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে কুয়েতের একটি ফাইভ স্টার হোটেলে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। মুসলিম রীতিতে ৬০০ জন পুরুষ আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবের উপস্থিতিতে ৩১টি যুগলের বিয়ে হয়। গণবিয়েটির আয়োজনে ছিল ‘ওসমান জাকাত’ কমিটি নামক একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। অন্য হোটেলে বাসর রাত যাপনের খরচও এই প্রতিষ্ঠানটি বহন করে। জানা যায়, কুয়েতে বিয়ের খরচ ও যৌতুকের চাহিদা বেশি হওয়ায় গরিব তরুণ-তরুণীরা অবিবাহিত থাকতে অনেকটাই বাধ্য হন। এটা থেকে সামান্য পরিত্রাণ দিতে ওসমান জাকাত কমিটির এই অভিনব প্রচেষ্টা।

সেট বিয়ের রাজা :

রাজাদের বেশি বিয়ে করা আফ্রিকা মহাদেশে একটা সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে ৪১৫ জন স্ত্রী! এটা ভাবতেই নড়েচড়ে বসাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ব্যাপারটি নিছক মজা করে উড়িয়ে দেবারও কোনো সুযোগ নেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৮৭৩ থেকে ১৮৯৪ পর্যন্ত মোট ২১ বছর আফ্রিকার কঙ্গো রাজ্য শাসন করে ওনিস্ক রাজা। কথিত আছে ওই রাজাই এতগুলো স্ত্রীর স্বামী ছিলেন। মজাটা অন্যখানে, তিনি এক সঙ্গে অনেকগুলো বোনকে পছন্দ করতেন। পরিসংখ্যান বলে, তার স্ত্রীদের মধ্যে এক সেটে ছিলেন ৫৫ বোন, আর অন্য সেটে ৩৫। এসব বোন নাকি আবার একই বাবার সন্তান। এভাবে ছোট-বড় আরো কয়েক সেট বিয়ে করেন তিনি। সে হিসেবে দেখা যায়, তিনি প্রায় শতবার নিজেই নিজের ভায়রা ভাই হয়েছেন।

নিম গাছ বর, আর বউ পিপুল গাছ :

২০০৪ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি ইউএনআই বার্তা সংস্থার একটি সংবাদে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য ভারতের প-িচেরিতে জমকালো অনুষ্ঠান করে দুটি গাছের মধ্যে বিয়ে দেওয়া হয়। ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিজেপির এক স্থানীয় সংসদ সদস্যও অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। শত শত গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিবাহকার্য সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিদের ভোজনপর্বটাও দেখার মতো ছিল। বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য প্রাণীদের মধ্যে বিয়ের রীতি হিন্দু ধর্মের প্রাচীন প্রথা। তাই বলে দুটি গাছের মধ্যে বিয়ে! সত্যিই এটা ব্যতিক্রমই বটে।

হ্যাঁ, আমি একই সঙ্গে ৬২ স্বামীর স্ত্রী :

ইংল্যান্ডের শেফিল্ডের পুলিশ কোর্টের আসামির কাঠগড়ায় গড়গড় করে শিরোনামের কথাটা বলেছিলেন ২৪ বছরের এক সুন্দরী তরুণী। ঘটনাটি ঘটে ১৯৯২ সালে। আগের স্বামীর অনুমতি না নিয়েই একের পর এক ৬২ জনকে বিয়ে করেন তিনি। স্থানও ভিন্ন ভিন্ন। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, জার্মানি ও দক্ষিণ আফ্রিকার আলাদা আলাদা জায়গায় বসবাস করত তার স্বামীরা। থেরেসা ভন নামের এই তরুণী সবগুলো বিয়ে করেছেন মাত্র ৫ বছরে। মজার ব্যাপার হলো, তার এই এতগুলো বিয়ের বিষয়ে স্বামীরা কেউ জানত না।

ঝুলন্ত কাপড়ের উপর শুয়ে বিয়ে :

কাছাকাছি দুটি গাছে কাপড় বেঁধে শক্ত করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তার উপর শুয়ে পড়ে বর। বিয়ের পোশাকে সাজুগুজু করে এসে বরের পাশে বসে কনে। এভাবে পাশাপাশি মিনিটখানেক বসে থাকলেই তাদের বিয়ে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এভাবে বিয়ে হয় পানামা দেশের বিলাস উপজাতীয়দের মধ্যে।

বিয়ের বয়স নির্ধারণে অভিনব পদ্ধতি :

কোনো হাড় না ভেঙে আস্ত মুরগির বাচ্চা চিবিয়ে খেতে হবে। সঠিকভাবে খেতে পারলে মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে ধরে নেওয়া হয়। এ রীতি বিদ্যমান আফ্রিকার কঙ্গো রাজ্যের বান্ডা মেয়েদের ক্ষেত্রে। পরের এক বছর ওই মেয়েকে আর কোনো কাজ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি তার নিজের কাজও। এই সময়টাতে অন্যরা তার গোসল করিয়ে দেয়, খাইয়ে দেয়, বিছানায় শুইয়ে দেয়। বিয়ের আগ পর্যন্ত এ নিয়ম বলবৎ থাকে।

নিয়মভাঙা এক বিয়ের খবর :

১৭৪০ খ্রিস্টাব্দ। রাশিয়ার রানি জারিনা আদেশ জারি করল, কোনো লোক বিদেশিকে বিয়ে করতে পারবে না। কিন্তু স্পর্ধা দেখাল গ্যালিটজিন। সে তার ইতালিয়ান প্রেমিকাকে বিয়ে করে বসল। এ খবর রানির কাছে পৌঁছালে, শাস্তি হিসেবে তাকে প্রচণ্ড শীতল স্থান নেভা নদীর তীরে এক কুৎসিত বৃদ্ধা নারীর সঙ্গে বাসর ও জীবন কাটাতে আদেশ দেওয়া হয়। সৈন্যরা নিয়মিত তাদের খাবার দিয়ে আসত। তাদের ধারনা ছিল, তারা বোধহয় বাঁচবে না। ঘটনার এক বছরের মাথায় যমজ সন্তান হয় তাদের। সম্রাজ্ঞী মারা যায় এই সময়ে। সুযোগ বুঝে গ্যালিটজিন পালিয়ে যায় ইতালিয়ান প্রেমিকার কাছে। আর জীবনের বাকি বছরগুলো এই প্রেমিকার কাছেই কাটায় সে।

সূত্র : গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.