| শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ডেলিভারি বেল্ট সংকট, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে -

» শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ডেলিভারি বেল্ট সংকট, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

Published: 09. Jul. 2019 | Tuesday

শান্ত আহমেদ, স্পেশাল করসপনডেন্ট : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ডেলিভারি বেল্টের সংকট চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কিন্তু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন না করে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ে চলছে। কিন্তু বাড়ে নি ব্যাগেজ ডেলিভারি বেল্ট এবং সেইগুলির ধারণক্ষমতা। বিশ্বের কোনো দেশের এয়ারপোর্টে বেল্ট চলমান অবস্থায় যাত্রীদের ব্যাগেজ অন্য কাহারো নামাবার রীতি না থাকলেও গত কয়েক দিন যাবত এই ধরনের ঘটনা ঘটতেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এইদিকে সময়মতো বেল্টে ব্যাগেজ না পেয়ে যাত্রীরা হইচই করছেন। অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়া। কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, শাহজালালের ব্যাগেজ বেল্টের সংকট তার উপরে একটি নষ্ট। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বেল্টটি নষ্ট হয়ে থাকলেও মেরামতের উদ্যোগ কেউ নেয় নি। আর, বেল্ট নষ্ট থাকায় কখনো কখনো একাধিক বিমানের ব্যাগেজ তুলে দিতে হয় একই বেল্টে। ফলে ব্যাগেজ-জট সৃষ্টি হয়। সেই কারণেই না কি স্ব স্ব এয়ারলাইন্স স্টাফরা যাত্রীদের ব্যাগেজ বেল্ট হইতে নামিয়ে সাইডে রাখে! প্রয়োজনীয় ব্যাগেজ-বেল্ট নাই, সেইগুলোর ধারণ ক্ষমতাও সীমিত।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাগেজ নিয়ে যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এয়ারক্রাফট হতে যাত্রী নেমে ইমিগ্রেশন শেষে ব্যাগেজ-বেল্টে পৌঁছে দেখতে পায় বেল্ট সংকটের কারনে ব্যাগেজ তখনো বেল্টে ভেলিবারি হচ্ছে না।

অথচ বিশ্বের বিখ্যাত সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা যায়, যাত্রী ইমিগ্রেশন করে ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছার আগেই ব্যাগেজ পৌঁছে যায়। প্রতিদিন বিমানবন্দরে শতাধিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করে। মাঝে মধ্যে একই সঙ্গে ৮-১০টি ফ্লাইটও অবতরণ করে । এই সময় কয়েক শত ব্যাগেজ ফ্লাইট থেকে নামানো হয়। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিদেশ হইতে আগত যাত্রীদের হয়রানি রোধে একাধিক বার নানা উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে। কিন্তু ডেলিভারি বেল্ট বাড়ানো হচ্ছে না।

দেশের নাগরিকদের নৈমিত্তিক হয়রানি তো আছেই, বিমানবন্দরে নেমেই বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয় বিদেশি নাগরিকদের। এই অবস্থাই চলতেছে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। শত সমালোচনা-লেখালেখির পরেও ডেলিভারি বেল্ট সংকট সমাধান হয় নি। একটি ব্যাগেজ-বেল্ট গত দুই সপ্তাহ নষ্ট হয়ে থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। এ রকম গাফিলতি কি যাত্রীরা বরদাশত করতেই থাকবে ! সকল সরকারের আমলেই বিমানবন্দরের মান উন্নয়নের নানা উদ্যোগ দেওয়া হয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি এবং দুর্নীতির কারণেই অবস্থার উন্নতি করা যায় না। কিন্তু দেশ অগ্রসর হচ্ছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সেবার মানের সঙ্গে আমাদের তাল মিলাতেই হইবে। এমতাবস্থায়, সরকার এ সকল ক্ষেত্রে কোনো রকম গাফিলতি, অবহেলা ও অনিয়ম বরদাশত করিবে না বলে ভুক্তভোগী যাত্রীগন মনে করেন। ছবি : ফাইল ফটো।