» নিরাপত্তার স্বার্থে ভোলার কুঞ্জেরহাটে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন জরুরী

Published: 11. Jul. 2019 | Thursday

শান্ত আহমেদ, স্পেশাল করসপনডেন্ট : শিল্প সম্ভাবনাময়ী দ্বীপজেলা ভোলার অন্যতম বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র কুঞ্জেরহাট এলাকার জনসাধারনের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন জরুরী। এ বৃহৎ বানিজ্যিক এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় আইন – শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন কুলশিত হচ্ছে। চুরি- ডাকাতি, জ্বীনের বাদশাদের দৌরাত্ম্য, মাদক ব্যবসা, দেহ ব্যবসা, চোরা চালানসহ নানা অপরাধ কর্ম নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুঞ্জেরহাট বানিজ্যিক কেন্দ্রটি বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন ও লালমোহন উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এ বাজার থেকে তিনটি উপজেলার দূরত্ব প্রায় একই। এছাড়া কাচিয়া ও টবগী ইউনিয়নের জনগনের মিলন কেন্দ্র হল এই কুঞ্জেরহাট বাজার। তজুমদ্দিনের শম্ভুপুর ও লালমোহনের বদরপুর ইউনিয়নও কুঞ্জেরহাট থেকে খুবই নিকটে। সড়ক পথে দ্বীপ উপজেলা মনপুরার জনগন ভোলা জেলা শহরে যাতায়াত করতে হলে এ বানিজ্যিক কেন্দ্রের উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। তাছাড়া কুঞ্জেরহাটে ক্ষুদ্র, মাঝারী ও বৃহৎ আকারের প্রায় সহশ্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আরো রয়েছে কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন, কয়েকটি স্বায়িত্বশাসিত ব্যাংক, বীমা ও এনজিওর অফিস।

এদিকে, কুঞ্জেরহাট বাজারটি জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার অন্তর্গত। কুঞ্জেরহাট থেকে বোরহানউদ্দিন থানার দূরত্ব প্রায় ১৩/১৪ কিলোমিটার। থানা থেকে এ বানিজ্যিক কেন্দ্রটি বেশ দুরত্বে হওয়ায় এলাকায় কোন অঘটন ঘটলেও তা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আসতে আসতে অপরাধী চক্র বীরদর্পে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাছাড়া এ বানিজ্যিক কেন্দ্রটি একটু দুরুত্বে হওয়ায় থানা টহল পুলিশ মাঝে মাঝে টহল দিলেও তা চোখে পড়ার মত নয়।

অপরদিকে, দৌলতখাঁন, হাকিমুদ্দিন, মির্জাকালু ও তজুমদ্দিনের বিভিন্ন এলাকার নদী সিকস্তি অধিকাংশ পরিবার কুঞ্জেরহাট এলাকায় বসবাস করছে। বিশেষ করে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী কুঞ্জেরহাট এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় কোস্টগার্ড নদীতে জলদস্যু গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালালে জলদস্যুরা এই এলাকায় আত্নগোপন করে বিভিন্ন অপকর্ম চালায়। জানা যায় অনেক জলদস্যুদের নিজস্ব ও আত্নীয় স্বজনের বাড়ি এই এলাকায় রয়েছে।

বিভিন্ন নির্বাচনের সময়েও কুঞ্জেরহাটে রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটে থাকে অহরহ। নির্বাচনের সময়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার রোসানলে পড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন। ফলে বাজারের ব্যবসায়ীবৃন্দ অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এমতাবস্থায় কুঞ্জেরহাট এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগন, ব্যবসায়ী, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ নাগরিক সুযোগ – সুবিধা সুনিশ্চিত করার জন্য কুঞ্জেরহাটে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা খুবই জরুরী। অত্র এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলী আজম মুকুল সাহেব কুঞ্জেরহাটে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে হস্তক্ষেপ করলে তা হয়তোবা বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে কুঞ্জেরহাটবাসী মনে করেন।