| বাংলাদেশের সাবেক কোচ প্রতারণা করে ধরা পড়লেন -

» বাংলাদেশের সাবেক কোচ প্রতারণা করে ধরা পড়লেন

Published: 13. Jul. 2019 | Saturday

ঢাকা: শুরুতে বাংলাদেশে এসেছিলেন খেলতে। পরবর্তী সময়ে নিযুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয় দাবা দলের কোচ। এরপর পর্যায়ক্রমে পাঁচবার জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেন ইগর রাউসিস। আবারও লাটভিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টারের হাতেই উঠতে যাচ্ছিল জাতীয় দাবা দলের দায়িত্ব।

ষষ্ঠবারের মতো ফাহাদ-শিরিনদের দায়িত্ব নিতে আগামী ২০ জুলাই ঢাকায় পা রাখার কথা ছিল রাউসিসের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হচ্ছে না। কারণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার সময় জালিয়াতি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রের হয়ে খেলা ৫৮ বছর বয়সী এই সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার।

বেশ কিছু দিন ধরেই রাউসিসকে সন্দেহের চোখে দেখছিল বিশ্ব দাবার সর্বোচ্চ সংস্থা ফিদে। কেননা গেল কয়েক বছর ধরেই চেক প্রজাতন্ত্রের ৫৮ বছর বয়সী এই গ্র্যান্ডমাস্টারের ফিদে রেটিংয়ে অবিশ্বাস্য রকম উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে ২৬৮৬ রেটিংধারী রাউসিসের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলতে পারছিল না ফিদে।

এজন্য রাউসিসকে রাখা হয়েছিল নজরে। শেষ পর্যন্ত তাকে ধরতে কৌশলের আশ্রয় নেয় ফিদে। আর তাদের সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন রাউসিস। ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ ওপেন চলার সময় টয়লেটে বসে লুকিয়ে দাবার চাল দেখতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছেন তিনি।

গত কয়েক বছর ধরে ফিদে রেটিং গ্রাফে অবিশ্বাস্য রকমের উন্নতি ছিল। রাউসিসের পারফরম্যান্স দেখে গত বছর টুইটারে তার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে প্রতারণার অভিযোগ আনেন ব্রিটিশ গ্র্যান্ডমাস্টার ড্যানি গরমালি ও আন্তর্জাতিক মাস্টার লরেন্স ট্রেন্ট। তাকে নিয়ে সন্দেহ ছিল বিশ্ব দাবার সর্বোচ্চ সংস্থা ফিদেরও।

শেষ পর্যন্ত সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তারা এবং হাতেনাতে ধরা পড়লেন রাউসিস। তবে টয়লেটে তার এই ছবিটি কিভাবে তোলা হয়েছে সেটা অস্পষ্ট।

রাউসিস গত বছর বিশ্বের শীর্ষ ১০০ জন দাবাড়–র তালিকায় জায়গা করে নেয়। পঞ্চাশ পেরিয়েও তার এই পারফরম্যান্স বাড়িয়ে দেয় সন্দেহ। রাশিয়ান গ্র্যান্ড মাস্টার ও দাবা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রে দেভিয়াৎকিন বলেছেন, ‘আমি সবসময় দেখেছি ৩০ এর পর দাবায় সাধারণত এত বিশাল উন্নতি খুবই কম। কিন্তু জিএম ইগর রাউসিস, যার বয়স ৫৭!, এখন তিনি শীর্ষ ১০০ তে, যার রেটিং ২৬৫৭।’ বয়সের বাধা ভেঙে ফেলা রাউসিসের ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্সের কারণ জানতেই ফিদে তাকে রাখে সন্দেহের আওতায়। শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা খেলেন তিনি।

ফিদে জানায়, পুলিশ রাউসিসের বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে শাস্তি হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।