| ‘রংপুরের ছাওয়াল’কে হারিয়ে রংপুরে বাঁধভাঙা কান্না -

» ‘রংপুরের ছাওয়াল’কে হারিয়ে রংপুরে বাঁধভাঙা কান্না

Published: 14. Jul. 2019 | Sunday

রংপুর প্রতিনিধি: ‘রংপুরের ছাওয়াল’ খ্যাত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই। সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে আঁতুড়ঘর রংপুর।

দলমত নির্বিশেষে সবার চোখ এখন অশ্রুসিক্ত। দীর্ঘদিনের অভিভাবককে হারিয়ে আহাজারি থামাতে পারছেন না তার (জাতীয় পার্টি) দলের নেতাকর্মী থেকে সমর্থকেরাও।

রোববার সকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডের জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে বাড়তে থাকে নেতাকর্মীদের ভিড়। সেখানে জাতীয় ও দলীয় পতাকার সাথে উড়ছে কালো পতাকা।

দূর-দূরান্ত থেকে অনবরত আসতে থাকে লোকজন। মুহূর্তেই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণ হয় সেখানে। কান্নায় ভেঙে পড়েন সবাই। চাপা কান্নাও যেন বাঁধ ভেঙে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর চিৎকারে।

দলীয় কার্যালয়ের মতোই রংপুরজুড়ে এরশাদ ভক্তদের শোকাবহ হৃদয় এখন কালো মেঘে আচ্ছন্ন। তার এই মৃত্যুতে রংপুরবাসী অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল বলেও মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

আর অন্য দলের নেতারা বলছেন, এরশাদের জীবদ্দশার কর্মকাণ্ডই তাকে মূল্যায়ণ করবে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মুনশি আব্দুল বারী। নেতাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি। রংপুরসহ সারাদেশে রাজনীতিতে এরশাদ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য নেতা। তার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূখী ভাবনায় তাকে এদেশের মানুষের মাঝে বেঁচে রাখবেন। এমনটাই বিশ্বাস করে রংপুর জাতীয় পার্টির এই নেতা।

এরশাদের হাত ধরে তৃণমূল থেকে রাজনীতির মঞ্চে সফলতার দেখা পেয়েছেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি এখন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগরের সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোস্তফা বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের পিতাকে হারালাম। আমার জীবনের পরম অভিভাবক ছিলেন। তার প্রস্থানের পরও মানুষ আজীবন তাকে মনে রাখবে।

তিনি বলেন, স্যার সবসময়ই দেশের জন্য চিন্তা করতেন। রংপুরের মানুষের কথা বলতেন। আজ স্যার নেই। রংপুরের মানুষ একজন অভিভাবককে হারালো।

এদিকে এরশাদের মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, ‘তার মতো নেতা আর হবে না। তিনি আমাদের এমপি ছিলেন। দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। রংপুরবাসী আজ তাকে হারিয়ে মর্মাহত। আমরা আর রাষ্ট্রপতি পাবো না।’।