| অবশেষে নামছে বাংলাদেশ বিমানের ‘গলার কাঁটা’ -

» অবশেষে নামছে বাংলাদেশ বিমানের ‘গলার কাঁটা’

Published: 15. Jul. 2019 | Monday

স্পেশাল করসপনডেন্ট : অবশেষে মুক্তি মিলছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনা সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। দূর করা হচ্ছে গলার কাঁটা। ইজিপ্ট এয়ার থেকে আনা বোয়িং ৭৭৭ দুটি উড়োজাহাজ বিদায় হচ্ছে এ মাসেই। প্রথমটি বিদায় নিচ্ছে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই)। অপরটি বিদায়ের দিন তারিখ এখনও ঠিক না হলেও এ মাসের মধ্যে চলে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, ‘চার বছর পর উড়োজাহাজ দুটিকে ফেরত দেয়া যেত। তাতে গচ্চার পরিমাণ আরও কমতো।’

এ মুহূর্তে বাড়তি অর্থ প্রদান করে ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি এমন নয়। চুক্তি মোতাবেক তাদের পাওনাদি দিয়ে উড়োজাহাজ ফেরত দেয়া হচ্ছে।’

জানা গেছে, বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দুটি লিজ চুক্তিতে আনা হয়েছিল মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যে কারণে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। মাসে ১১ কোটি টাকা হারে পাঁচ বছরে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার উপরে মাশুল গুনতে হয়েছে। দুটি উড়োজাহাজ লিজের নামে হাতি পুষেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এক পাইলটের নেতৃত্বে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় ওই চুক্তি করায় রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটি বছরে গচ্চা দিয়েছে ১৩২ কোটি টাকা হারে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের মার্চে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ওই বছরের মার্চে এবং অন্যটি একই বছরের মে মাসে। ১১ মাস পার করে অর্থাৎ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। ধারণা করা হয়, সুবিধাভোগীদের স্বার্থ হাসিল করতে চড়া দামে ইঞ্জিন ভাড়া করা হয়। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাউন্ডেড থাকে উড়োজাহাজ দুটি। গত ডিসেম্বরে নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। পরে ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় নি। এদিকে ভাড়ার ১১ কোটি টাকা করে প্রতি মাসে গুনতে হয়েছে বিমানকে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক মাহবুব জাহান বলেন, ‘আমরা উড়োজাহাজ দুটি নিয়ে বড় অস্বস্তিতে ছিলাম। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন মঙ্গলবার একটি জাহাজ চলে যাচ্ছ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি বিমানটিও চলে যাবে। তখন আর মাস গেলে ১১ কোটি টাকা গচ্ছা দিতে হবে না।’

লিজে আনা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের দুটির কারণে বিমানের সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হওয়ার কারণ হিসেবে গণমাধ্যমকে বলা হয়, এ দুই উড়োজাহাজ লিজ নেয়া এবং মেরামতে চরম অবহেলা ও অনিয়ম করা হয়েছে। উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার পর থেকে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুসঙ্গিক কাজে এ সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা খরচ হয়। যা দিয়ে একটি নতুন উড়োজাহাজ কেনা যেত।