| চিড়িয়াখানায় বাঘ-বাঘিনীর প্রেম -

» চিড়িয়াখানায় বাঘ-বাঘিনীর প্রেম

Published: 02. Dec. 2019 | Monday

জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শকের নজর কাড়ছে যুগল বাঘ কদম-শিউলির প্রণয়। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নতুন যুগল এ দুই বন্যপ্রাণী। একেবারে পাশাপাশি থাকার কারণে বাঘ কদম আর বাঘিনী শিউলির মধ্যে অন্যরকম এক সখ্যতা গড়ে উঠেছে। দুই প্রাণীরই নামকরণ করা হয়েছে ফুলের নামে। চলতি বছরের জুলাই মাসে সাউথ আফ্রিকার পৃথক দুটি প্রদেশ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে এদের কেনা হয়। বর্তমানে এই বাঘ ও বাঘিনীর বয়স সাড়ে তিন বছর। বাংলাদেশে আনার পর এদের রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এরপর কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ হলে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এদের পাশাপাশি খাঁচায় রাখা হয়। ফলে এদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বিষয়টি চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি তখন সপ্তাহের রবিবার সারা দিন এদের এক খাঁচায় রাখেন। এ বাঘ যুগলের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জু-কিপার আবদুর রশিদ নামে এক কর্মচারীকে। চিড়িয়াখানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কদম ও শিউলি একই খাঁচার দুটো আলাদা কক্ষে থাকে। চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ এখন এই দুই বাঘ। এদের প্রণয় দৃশ্য দর্শকদের দারুণ খোরাক জোগাচ্ছে। তাছাড়া দুই বাঘও বেশ আমোদে। খেলা আর খুনসুটিতে মেতে থাকছে সারাক্ষণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা খাঁচার মাঝখানের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য কাছে আসতেই তাদের দিকে ছুটে আসে বাঘ দুটো। তখন খাঁচা ঘিরে দাঁড়ানো দর্শকদের মধ্যে থাকে বিস্ময় আর আতঙ্ক। তারা রুদ্ধশ্বাসে ভাবতে থাকেন- এই বুঝি কর্মচারীর হাত কামড়ে ছিঁড়ে নিল! কিন্তু তেমন কিছুই ঘটে না। বরং দেখা যায় দুই বাঘই দরজা খুলে দেওয়ার জন্য কর্মচারীর হাত চাটতে থাকে, যেন তাকে খুশি করতে চায়। গতকাল জু-কিপার রশিদ বলেন, ‘বাঘ দুটো খুব মিশুক। সারাক্ষণই খেলায় ব্যস্ত থাকে। একটি আরেকটির সঙ্গে এমনভাবে খুনসুটি করে যে, দেখলে মনে হয় মারামারি করছে। কিন্তু আসলে এসব ওদের ভাব-বিনিময়। অনেকটা প্রেম করার মতো।’ সরেজমিন দেখা গেছে, বেলা ১১টায় প্রায় দেড় হাজার দর্শক ভিড় করেছেন কদম-শিউলির প্রণয় দেখতে। দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকলে হঠাৎ তড়াক করে লাফ দিয়ে ওঠে শিউলি। লেজ তুলে খাঁচার বাইরে প্রস্রাব করে দেয়। মুহূর্তে খাঁচার সামনেটা ফাঁকা হয়ে যায়। দর্শকের মাঝে হুল্লোড় পড়ে যায়।

চিড়িয়াখানার এক কর্মী বলেন, বাঘ এভাবে নিজের সীমানা নির্ধারণ করে। বুঝিয়ে দেয় ওই এলাকায় অন্য কারও প্রবেশ নিষেধ। বাঘ দুটো এ সময় মজা করতে থাকে। দর্শক ভিড় করে দেখেন। পুরুষ বাঘটি চার পা আকাশের দিকে তুলে দিয়ে ডিগবাজি খায়, আর তার ওপর দিয়ে লাফিয়ে যায় বাঘিনী। আবার কিছুক্ষণ পর বাঘটি উঠে গিয়ে ঘাড় কামড়ে ধরে বাঘিনীর। তবে এ কামড় অন্যকিছু নয়, আদরের, সোহাগের।