Bijoysangbad | জন্ম না নেয়া শিশুকে স্বর্গে পাঠাতে এতো আয়োজন!ৎ - Bijoysangbad

» জন্ম না নেয়া শিশুকে স্বর্গে পাঠাতে এতো আয়োজন!ৎ

Published: ১৯. মে. ২০২০ | মঙ্গলবার

ফিচার ডেস্ক:

একজন শিশুর মৃত্যু নিঃসন্দেহে চরম বেদনাদায়ক। এমনকি জন্মের আগে শিশুটির মৃত্যু হলেও তা বেদনাদায়ক। প্রকৃতপক্ষে, অনেক অভিভাবকেরই গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা থাকে।
তাদের কষ্টটাও কোনো অংশে কম নয়। বিশ্বজুড়ে মৃত ব্যক্তির সৎকারের জন্য বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়। তবে গর্ভপাত বা হারানো মাতৃত্বের জন্য তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয় না।

জানেন কি? জাপানের একটি ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ ধর্মীয় সংস্কৃতিতে জন্ম না নেয়া শিশু বা গর্ভপাতের ক্ষেত্রেও বিশেষ রীতিতে শোক পালন করা হয়। এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাতের জন্যেও এই রীতি পালিত হয়। জাপানি ভাষায় এই আচার অনুষ্ঠানকে মিজুকো কুয়ে বলা হয়। যাকে ইংরেজিতে ‘ওয়াটার চাইল্ড মেমোরিয়াল সার্ভিস’ বলা হয়।

জাপানের মন্দিরে এবং বসত বাড়িতে এটা পালিত হয়। বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুসারে, যে শিশু জন্মের আগেই মারা যায় সে স্বর্গে যাতে পারে না। এর কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় তার কখনো ভালো কর্মফল অর্জনের সুযোগ ছিল না। তাই শিশুটিকে পৌরাণিক সানজু নদীর তীরে সাই নো কাওড়া নামক স্থানে পাঠানো হয় বলে তাদের বিশ্বাস।

এই শিশুদের অভিভাবক হিসেবে বিশ্বাস করা হয় জিজোকে। যাকে বোধিসত্ত্ব বা আলোকিত সত্তা বলা হয়। বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী, জিজো এই মৃত বাচ্চাদের দেখাশুনা করেন। রাক্ষসদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করেন এবং নিজের পোশাকের মধ্যে নিয়ে স্বর্গে পথে যাত্রা করতে সাহায্য করেন।

যেসব শোকসন্তপ্ত পিতা মাতা গর্ভপাতের কারণে তদের শিশুকে হারিয়েছে, তারা জিজোকে সম্মান প্রদর্শন করে। তাদের বিশ্বাস জন্মের পূর্বেই মৃত শিশুটির পরকালে ভালো রাখতে জিজো বড় ভূমিকা রাখে। জিজো মূর্তিগুলো মন্দির, কবরস্থান এমনকি রাস্তার পাশেও নির্মিত হয়। সাধারণত মূর্তিগুলো পাথর দ্বারা নির্মিত হয়।

মূর্তিগুলোকে ছোট বাচ্চাদের পোশাক পরানো হয়। সাধারণত গলায় লাল বিব এবং মাথায় লাল টুপি থাকে। শোকসন্তপ্ত পিতা মাতা জিজোর মূর্তির কাছে খেলনা, ক্যান্ডিসহ বাচ্চাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেখে আসে। অনেক সময় মূর্তির পাশে ছোট ছোট পাথরের টাওয়ার তৈরি করা হয়।

তাদের বিশ্বাস টাওয়ার থাকলে জিজো শিশুদের সহজে স্বর্গে পৌঁছে দিতে পারে। জাপানে মিজুকো কুয়ে’র ঐতিহ্য বহু শতাব্দী পূর্বের। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই রীতি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ছয় বছরের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বেশিরভাগ পরিবার তীব্র আর্থিক সঙ্কটে ছিল।

সবাই পরিবার ছোট রাখার চিন্তা-ভাবনা করছিল। ফলে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনেকেই। তবে তাদের মধ্যে শোক আত্মগ্লানি বোধ সবই ছিল। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তি পেতে মিজুকো কুয়ে রীতির প্রচলন ব্যাপকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে অনেক মার্কিন দম্পতিও এই আচার অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।

সূত্র: অ্যামিউজিংপ্লানেট